সর্বশেষ

বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৪

নক্ষত্র স্ফুলিঙ্গ

নক্ষত্র স্ফুলিঙ্গ

 







নক্ষত্র স্ফুলিঙ্গ

যুক্তরাষ্ট্রের এক গবেষণাগারে নক্ষত্র স্ফুলিঙ্গ বানানোর কাজ চলছে। এক বিশাল ঘরের মধ্যে রাখা হয়েছে একটি ছোট্ট ফাঁপা গোলক। গোলকটি ভর্তি করা হয়েছে ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম গ্যাসের আধাআধি মিশ্রণ দিয়ে। এরা হাইড্রোজেন পরমাণুরই অন্যরূপ। তবে ডিউটেরিয়ামের আছে একটি বাড়তি নিউট্রন, আর ট্রিটিয়ামের দুটি। পদার্থবিদেরা এই মিশ্রণকে বলেন D-T মিশ্রণ। ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র গোলকটি একটি সুচের আগায় বসানো। গোলকটিকে ঘিরে রেখেছে কয়েকটি শক্তিশালী লেজার বন্দুক (laser gun)। সবগুলো বন্দুকের নল তাক করে আছে গোলকটির দিকে। গোলকটির পাশে রাখা হয়েছে কয়েকটি এক্স-রে ডিটেক্টর। ঘরের দেয়ালের গায়ে বসানো আছে বেশ কয়েকটি কম্পিউটার স্ক্রিন।

কয়েকজন বিজ্ঞানী ব্যস্তভাবে হাঁটাহাঁটি করছেন, কেউ নোটবুকের পাতা ওল্টাচ্ছেন, কেউ তাকাচ্ছেন লেজার বন্দুকগুলোর দিকে, কেউবা দেয়ালের কম্পিউটারের স্ক্রিনের দিকে। শেষবারের মতো দেখে নেওয়া হলো সব ঠিকমতো কাজ করছে কি না। সিনেমার পরিচালকের মতো একজন বিজ্ঞানী কম্পিউটারের মাধ্যমে জানিয়ে দিলেন, অ্যাকশন, শুরু হোক নক্ষত্র বানানোর খেলা! সবগুলো লেজার বন্দুক একসঙ্গে ঝলসে উঠল। মুহূর্তেই গোলকটি হয়ে গেল এক নক্ষত্র স্ফুলিঙ্গ। নক্ষত্রের মাঝের অংশের তাপমাত্রা ১৫ মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে, ওখানেই নক্ষত্র পদার্থ থেকে শক্তি বানায়। স্ফুলিঙ্গটি ক্ষণকালের জন্য নক্ষত্রের পারমাণবিক চুলায় পরিণত হলো এবং তার পাখায় পেল ক্ষণকালের ছন্দ, জ্বলে উঠে ফুরিয়ে গেল।

সূর্য একটি নক্ষত্র। এই পৃথিবীর সব কয়লা, পেট্রোল, জঙ্গল, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে যে শক্তি জুটবে সূর্য এক সেকেন্ডে বানায় তার চেয়ে হাজার গুণ বেশি শক্তি। সূর্য কেমন করে এ কাজটি করে?

তবে নিভে যাওয়ার আগে ও বিজ্ঞানীদের একটি সাধ পূর্ণ করেছে, ও বস্তু থেকে শক্তি তৈরি করেছে। ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম পরমাণুর কিছু অংশ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছে; লেজার থেকে যে পরিমাণ শক্তি জোগান দেওয়া হয়েছিল, পাওয়া গেছে তার চেয়ে অনেক বেশি শক্তি। বিজ্ঞানীদের এই নক্ষত্র বানানো একটি মজার খেলা। তবে বিজ্ঞানীদের আসল উদ্দেশ্য পৃথিবীর বুকে একটি ছোট্ট নক্ষত্র তৈরি করা, যা অনেক দিন বেঁচে থাকবে, আর যা থেকে মিলবে অফুরন্ত শক্তি। এই নক্ষত্র স্ফুলিঙ্গটিকে কীভাবে অনেক দিন বাঁচিয়ে রাখা যায়? সেই চেষ্টা চলছে প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে। এক্স-রে ডিটেক্টরগুলো স্ফুলিঙ্গ থেকে ছড়ানো এক্স-রের ছবি নিয়ে রেখেছে। বেশ কজন বিশেষজ্ঞ কয়েক দিন ধরে ওই এক্স-রে বর্ণালির (Spectrum) ছবি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখবে। স্ফুলিঙ্গের তাপমাত্রা, ঘনত্ব, উত্তেজিত পরমাণুগুলোর হালচাল—সব খবরই মিলবে ওই বর্ণালি থেকে। সেই সঙ্গে মিলতে পারে চিরস্থায়ী খুদে নক্ষত্র বানানোর কিছু অজানা তথ্য।

সূর্য একটি নক্ষত্র। এই পৃথিবীর সব কয়লা, পেট্রোল, জঙ্গল, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে যে শক্তি জুটবে সূর্য এক সেকেন্ডে বানায় তার চেয়ে হাজার গুণ বেশি শক্তি। সূর্য কেমন করে এ কাজটি করে? ১৯০৫ সালের আগে বিজ্ঞানীরা এ নিয়ে অনেক ভেবেছেন, কোনো কূলকিনারা মেলেনি। সেকালের বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির লেখকেরা এ নিয়ে লিখেছেন অসংখ্য গল্প। ১৮৭০ সালের দিকে ফরাসি লেখক জুল ভার্ন লিখেছিলেন টোয়েন্টি থাউজেন্ড লিগস আন্ডার দ্য সি এবং মিস্ট্রিয়াস আইল্যান্ড নামের দুটি বই, যা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির ইতিহাসে অমর হয়ে আছে। বেশ কয়েকটি সিনেমা হয়েছে এই বই দুটি নিয়ে, হয়েছে অনেক টিভি সিরিজ। নিজের হাতের গড়া সাবমেরিন নটিলাস নিয়ে সমুদ্রের তলে তাঁর দলবল নিয়ে ঘুরে বেড়াতেন এই গল্পের নায়ক ক্যাপ্টেন নিমো। তিনি ভারতের এক বিদ্রোহী রাজকুমার। ১৮৫৭ সালের ভারতের ব্রিটিশবিরোধী প্রথম স্বাধীনতাসংগ্রামে (সিপাহি বিদ্রোহ) এই রাজকুমার হারিয়েছেন তাঁর মা-বাবাকে। প্রতিহিংসার আগুনে জ্বলছেন তিনি। মহাবিজ্ঞানী ক্যাপ্টেন নিমো তাঁর সাবমেরিন নিয়ে একাই লড়াই করে চলেছেন ব্রিটিশ রণতরির বিরুদ্ধে, ডুবিয়ে দিচ্ছেন একের পর এক সমুদ্রজাহাজ। সাবমেরিনটির শক্তির উত্স কী তা নিয়ে বিজ্ঞান-উত্সাহী পড়ুয়াদের জল্পনাকল্পনার শেষ ছিল না। সূর্যের শক্তি বানানোর গোপন রহস্য কি  নিমো জানতেন?

১৯৫৪ সালে নির্মিত আমেরিকার পারমাণবিক শক্তি পরিচালিত সাবমেরিন ইউএসএ নটিলাস ৫৭১-এর নামকরণ হয়েছে ক্যাপ্টেন নিমোর সম্মানে। তবে বলে রাখা ভালো, এ যুগের পারমাণবিক সাবমেরিন সূর্যের পদ্ধতিতে শক্তি তৈরি করে না। সূর্য দুটো হালকা পরমাণুকে জোড়া দেয়, কিন্তু সাবমেরিনের পারমাণবিক চুলা একটা ভারী পরমাণুকে ভেঙে ফেলে। বিজ্ঞানীদের ভাষায় এই পদ্ধতিগুলো যথাক্রমে নিউক্লিয়ার ফিউশন আর নিউক্লিয়ার ফিশন নামে পরিচিত।

সূর্য কেমন করে এত শক্তি তৈরি করে সেই গোপন কথাটা আইনস্টাইন প্রথম ফাঁস করেন। ১৯০৫ সালে তিনি প্রকাশ করলেন আপেক্ষিক তত্ত্ব।

১৯৫৪ সালের ডিজনি সিনেমায় নিমোকে ইউরোপিয়ান হিসেবে দেখানো হয়েছে। এই গল্পে নিমোর যুদ্ধ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে নয় বরং ‘সভ্য’ মানুষের বিরুদ্ধে। নিমোর গোপন বিজ্ঞান গবেষণার খবর জানার জন্য যারা নিমোর স্ত্রী-সন্তানদের নির্যাতন করে খুন করেছে। এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে পুড়ে যায় গোপন দ্বীপে নিমোর আস্তানা, সেই সঙ্গে পৃথিবীর বুকে সূর্য বানানোর স্বপ্ন। এখন বিজ্ঞানীরা আদাজল খেয়ে লেগেছেন নিমোর স্বপ্ন সফল করতে।

সূর্য কেমন করে এত শক্তি তৈরি করে সেই গোপন কথাটা আইনস্টাইন প্রথম ফাঁস করেন। ১৯০৫ সালে তিনি প্রকাশ করলেন আপেক্ষিক তত্ত্ব। অপূর্ব এই তত্ত্বের ঝুড়ি থেকে বের হলো আজব সব খবর: চলন্ত পথিকের হাতের ঘড়ি আস্তে ঘোরে, তার পকেটের গজকাঠি ছোট হয়ে যায়, তার ভরবেগ যায় বেড়ে ইত্যাদি। আরেকটি মজার কথা জানা গেল যে বস্তু শক্তির এক বিশেষ রূপ, বস্তু থেকে শক্তি বানানো যাবে এবং শক্তি থেকে বস্তু। সূর্য বস্তু থেকে শক্তি বানায়। এই বস্তু-শক্তি রূপান্তরের সমীকরণটি এখন অনেকেরই জানা, E=mc2। এখানে E হলো এনার্জি বা শক্তি, c হলো আলোর গতিবেগ, m হলো বস্তুর ভর। আলোর গতি বেজায় বড় একটি সংখ্যা, ওকে বর্গ করলে ও যাবে আরও অনেক বেড়ে। তাই খুব অল্প পরিমাণ পদার্থ থেকে অঢেল শক্তি জোটে। কিন্তু এই রূপান্তর ঘটাতে কী করতে হবে? এসব ছোটখাটো ব্যাপারে আইনস্টাইন সাধারণত নাক গলাননি। তিনি এক রত্নভান্ডারের খবর এনে দিলেন, ওখানে কী সব রত্ন লুকিয়ে আছে তার খোঁজ করার ভার পড়ল অন্যদের ওপর। ইতালির বিজ্ঞানী এনরিকো ফার্মি সেই যে সুইডেনে গেলেন নোবেল পুরস্কার নিতে, দেশে আর ফিরলেন না, চলে এলেন আমেরিকায়। ১৯৪২ সালে ফার্মি ভারী ইউরেনিয়াম অ্যাটমকে নিউট্রন দিয়ে গুঁতা মেরে বানালেন পদার্থ থেকে শক্তি। এটাই প্রথম নিয়ন্ত্রিত নিউক্লিয়ার ফিশন রিঅ্যাকশন। এই নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর শিকাগো পাইল-১ নামে পরিচিত। সূর্যের মতো দুটি হালকা পরমাণুকে জোড়া দিয়ে নিয়ন্ত্রিতভাবে দীর্ঘ সময় ধরে শক্তি তৈরি এখনো সম্ভব হয়নি। পৃথিবীজুড়ে বিজ্ঞানীরা উঠেপড়ে লেগেছেন, হরেক উপায়ে চেষ্টা চলছে। এই শক্তিস্বর্গ খুব বেশি দূরে নয়।


বুধবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৪

কোন গ্রহে আপনার ওজন কত?

কোন গ্রহে আপনার ওজন কত?

 

প্রতীকী ছবি

কোন গ্রহে আপনার ওজন কত?

আপনি হয়তো বিজ্ঞান কল্পগল্পের ভক্ত কিংবা একজন মহাকাশপ্রেমী। অথবা বিশ্বাস করেন, ভবিষ্যতে মানুষ মঙ্গল, চাঁদ বা অন্য কোনো গ্রহে বাস করবে। সেক্ষেত্রে সেসব গ্রহ বা উপগ্রহে আপনার ওজন কত হবে, তা নিশ্চয়ই জানতে ইচ্ছে করে। আর তা জানার জন্য একটুখানি পদার্থবিজ্ঞান ও গণিতের সাহায্যে নিতে হবে। হিসেব কষে দেখতে হবে, কোন গ্রহে আমাদের ওজন কত। তবে তার আগে ওজন ও ভর সম্পর্কেও একটু আলোচনা করা দরকার। 

ওজন ও ভরের মধ্যে বিস্তর ফারাক। কথায় কথায় আমরা ওজন ও ভর মিলিয়ে ফেললেও দুটি বিষয় আসলে এক নয়। ভর বলতে বোঝায়, কোনো বস্তুর মধ্যে কতটুকু পদার্থ আছে। যেমন, আপনার হাতের মোবাইলের ভর ৫০০ গ্রাম। অর্থাৎ, মোবাইলে মোট ৫০০ গ্রাম পদার্থ আছে। কিন্তু ওজন হলো, কোনো পদার্থের ভর ও অভিকর্ষজ ত্বরণের গুণফল। মানে কোনো বস্তুকে পৃথিবী তার নিজের দিকে যে বলে টানে, সেই বলই হলো ওজন। মোবাইলের উদাহরণটা দিয়ে আরও একটু সহজে বোঝার চেষ্টা করি। আপনার ৫০০ গ্রাম ভরের মোবাইলটা ওপরের দিকে ছুড়ে মারলে, মোবাইল নিচের দিকে পড়বে। যত বেগে মোবাইলটা নিচে পড়বে, সেটাই মোবাইলের ওজন। 

তাহলে আমরা বাজারে গিয়ে যখন মাছ বা মুরগির ওজন জিজ্ঞেস করি, তা কি ভুল হয়? আমাদের কি মাছের ভর জিজ্ঞেস করা উচিৎ? আসলে না। কারণ মাছ বা মুরগি যেহেতু পৃথিবী পৃষ্ঠেই আছে, সুতরাং ওজন বলাই যায়। এবার প্রসঙ্গে ফিরি। একটুখানি অঙ্ক করে বের করি, কোন গ্রহে আমাদের ওজন কত হতে পারে? 


অন্য গ্রহে নিজের ওজন বের করতে হলে পৃথিবীতে নিজের ওজন জানতে হবে। যেমন, পৃথিবীতে হয়ত আপনার ওজন হতে পারে ৭০ কেজি। আর যে গ্রহে নিজের ওজন নির্ণয় করতে চান, সেই গ্রহের পৃষ্ঠের মহাকর্ষ শক্তি জানতে হবে। কোন গ্রহের মহাকর্ষ শক্তি কত, তা নিচে দেওয়া আছে। সবশেষে নিজের ওজনের সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট গ্রহের মহাকর্ষ শক্তি গুণ করলেও পাওয়া যাবে সে গ্রহে আপনার ওজন। 

অন্য গ্রহে নিজের ওজন বের করার সূত্র: নিজের ওজন × গ্রহের মহাকর্ষ শক্তি। 

সৌরজগতের বিভিন্ন বস্তুর মহাকর্ষ শক্তি: 

  • সূর্য: ২৭.০১ 

  • বুধ: ০.৩৮ 

  • শুক্র: ০.৯১ 

  • পৃথিবী: ১

  • চাঁদ: ০.১৬৬

  • মঙ্গল: ০.৩৮ 

  • বৃহস্পতি: ২.৩৪

  • শনি: ১.০৬ 

  • ইউরেনাস: ০.৯২ 

  • নেপচুন:১.১৯

  • প্লুটো: ০.০৬

এবার ধরুন, পৃথিবীতে আপনার ওজন ৭০ কেজি। তাহলে মঙ্গলে আপনার ওজন হবে ৭০ × ০.৩৮ = ২৬.৬ কেজি। এভাবে যেকোনো গ্রহে আপনার ওজন কত হবে, তা নিজেই বের করতে পারবেন।  

এবার ৭০ কেজি ওজন ধরে সৌরজগতের কোথায় ওজন কত হবে, তা বের করি। 

  • সূর্য: ১ হাজার ৮৯৭ কেজি 

  • বুধ: ২৬.৬ কেজি

  • শুক্র: ৬৩.৭ কেজি

  • পৃথিবী: ৭০ কেজি 

  • চাঁদ: ১১.৬৯ কেজি 

  • মঙ্গল: ২৬.৬ কেজি 

  • বৃহস্পতি: ১৬৩.৮ কেজি

  • শনি: ৭৪.২ কেজি 

  • ইউরেনাস: ৬৪.৪ 

  • নেপচুন: ৮৩.৩ কেজি 

  • প্লুটো: ৪.২ কেজি 

গুণ করা ছাড়াও আপনি অন্য গ্রহে নিজের ওজন বের করতে পারবেন। এ জন্য আছে অনলাইন ক্যালকুলেটর। এই ক্যালকুলেটরে নিজের ওজন লিখলেই বাকি সব গ্রহে আপনার ওজন কত হবে, তা দেখা যাবে।

মঙ্গলবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৩

হাতির কেন ক্যান্সার হয় না

হাতির কেন ক্যান্সার হয় না

 

হাতির মতো বিশালদেহী প্রাণীর ক্যান্সার হয় না বললেই চলে


হাতির কেন ক্যান্সার হয় না

প্রাণিজগৎ হাতির কেন ক্যান্সার হয় না 

তিমি বা হাতির মতো বিশালদেহী প্রাণীর ক্যান্সার হয় না বললেই চলে। অর্থাৎ ক্যান্সার হওয়ার সঙ্গে কোনো প্রজাতির কোষের সংখ্যার সম্পর্ক দেখা যায় না। 

তিমি বা হাতির মতো বিশালদেহী প্রাণীর ক্যান্সার হয় না বললেই চলে। অর্থাৎ ক্যান্সার হওয়ার সঙ্গে কোনো প্রজাতির কোষের সংখ্যার সম্পর্ক দেখা যায় না

বিজ্ঞানে পেটোর প্যারাডক্স বলে একটা ব্যাপার আছে। এই প্যারাডক্স বা হেঁয়ালির মূল কথা হলো, একই প্রজাতির প্রাণীর কোষের সংখ্যা বেশি হলে তার ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি (ক্যান্সারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রিত থাকলেও এমনটাই দেখা যায়)। অথচ প্রজাতিভেদে এই বিষয়টি আর কাজ করে না। তিমি বা হাতির মতো বিশালদেহী প্রাণীর ক্যান্সার হয় না বললেই চলে। অর্থাৎ ক্যান্সার হওয়ার সঙ্গে কোনো প্রজাতির কোষের সংখ্যার সম্পর্ক দেখা যায় না। কেন, সে বিষয়টা বুঝতে আগে ক্যান্সার জিনিসটা কী, তা দেখে নেওয়া প্রয়োজন।আমাদের দেহে ক্যান্সার হওয়ার কারণ, কোষের ভেতর লম্বা সময় ধরে জমা মিউটেশন। মিউটেশন কী? কোষের ডিএনএতে চার ধরনের নাইট্রোজেন ক্ষার একটা নির্দিষ্ট অনুক্রমে বসানো থাকে। ক্ষার চারটা হলো—অ্যাডিনিন (A), গুয়ানিন (G), সাইটোসিন (C) আর থায়মিন (T)। মিউটেশন মানে হলো, কোনো কারণে ডিএনএতে এই চারটা ক্ষারের অনুক্রম পরিবর্তিত হয়ে যাওয়া। আর মিউটেশন হওয়ার একটা কারণ হলো কোষের ভেতরে ডিএনএ অনুলিপন—অর্থাৎ যে প্রক্রিয়ায় এক ডিএনএ থেকে অন্য ডিএনএ তৈরি হয়, সে প্রক্রিয়ায় ভুল হওয়া।

হয়তো ভাবতে পারেন, হাতিও আমাদের মতো লম্বা সময় ধরে বাঁচে। তাদের দেহে কোষের সংখ্যাও অগণিত। কিন্তু হাতি কখনো ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় না বললেই চলে। কারণটা কী?

মানবদেহের মতো হাতির দেহেও পি৫৩ (p53) নামে একধরনের প্রোটিন তৈরি হয়। এই প্রোটিনের কাজ হলো ডিএনএ অনুলিপনের সময় হওয়া ভুলগুলো ঠিক করা। কোষে প্রোটিন তৈরি হয় জিন থেকে। তেমনি পি৫৩ প্রোটিনের জন্যও আছে নির্দিষ্ট জিন। এর নাম টিপি৫৩ (TP53)। ডিএনএ অনুলিপনের সময়ের ভুলগুলো ঠিক করার মতো গুরু দায়িত্ব পালনের জন্য একে ‘গার্ডিয়ান অব দ্য জিনোম’ বা জিনের অভিভাবক বলে ডাকা হয়।


একটা লম্বা সময় ধরে কোষের ডিএনএতে মিউটেশন জমা হলে টিউমার সৃষ্টি হয়। পরে এই টিউমার থেকে হয় ক্যান্সার। পি৫৩ প্রোটিন ডিএনএর মিউটেশনগুলো ঠিক করে টিউমার গঠনের হাত থেকে কোষকে রক্ষা করে

অবাক করা বিষয় হলো, হাতির দেহকোষে পি৫৩ জিনের বিশটি কপি থাকে। প্রতিটি কপির আবার দুটি করে প্রকরণ থাকে। এগুলোকে ডাকা হয় অ্যালিল। সুতরাং হাতির দেহকোষে পি৫৩ জিনের প্রকরণ সংখ্যা দাঁড়ায় চল্লিশ। ফলত এদের কোষে মোট চল্লিশটি পি৫৩ প্রোটিন তৈরি হয়। আর মানুষের দেহকোষে এই জিনের কেবল একটি কপি (দুটি প্রকারণ) থাকে। ফলে আমাদের দেহকোষে কেবল দুটি পি৫৩ প্রোটিন তৈরি হয়।

একটা লম্বা সময় ধরে কোষের ডিএনএতে মিউটেশন জমা হলে টিউমার সৃষ্টি হয়। পরে এই টিউমার থেকে হয় ক্যান্সার। পি৫৩ প্রোটিন ডিএনএর মিউটেশনগুলো ঠিক করে টিউমার গঠনের হাত থেকে কোষকে রক্ষা করে। ডিএনএ অনুলিপন প্রক্রিয়ায় কোনো ভুল দেখা গেলেই এই প্রোটিন অনুলিপন প্রক্রিয়া থামিয়ে সেটা মেরামত করে। কিংবা কোষে যদি যথেষ্ট মিউটেশন জমে যায়, পি৫৩ প্রোটিন সে কোষকে আত্মঘাতী হতে বাধ্য করে। বোঝাই যাচ্ছে, এই প্রোটিনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। অর্ধেকেরও বেশি মানুষের দেহে ক্যান্সার হয় রেডিয়েশন বা তেজস্ক্রিয়তা কিংবা কোনো কারণে পি৫৩ প্রোটিনের কার্যকারিতা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে।

হাতির দেহে চল্লিশটি পি৫৩ প্রোটিন তৈরি হয়। আর মানুষের দেহকোষে এই জিনের কেবল একটি কপি বা দুটি প্রকারণ থাকে
হাতির দেহে চল্লিশটি পি৫৩ প্রোটিন তৈরি হয়। আর মানুষের দেহকোষে এই জিনের কেবল একটি কপি বা দুটি প্রকারণ থাকে


বারে আগের প্রশ্নে আবার ফেরা যাক। হাতির দেহে কেন ক্যান্সার হয় না? যেহেতু হাতির দেহে বহু সংখ্যক পি৫৩ প্রোটিন তৈরি হয়, তাই মিউটেশনের কারণে এই প্রোটিনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়। তা ছাড়া একই কারণে একসঙ্গে বিভিন্ন আণবিক সংকেতে সাড়া দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কোষের মিউটেশন মেরামত করা সম্ভব হয়। বিজ্ঞানীরা হাতির দেহকোষে পি৫৩ প্রোটিনগুলো কী করে ক্ষতিগ্রস্ত কোষের প্রতি সাড়া দেয়, তা বোঝার চেষ্টা করছেন। সেই সঙ্গে এই গবেষণা মানুষের দেহে ক্যান্সার রুখতে কাজে লাগানো যায় কি না, সে চেষ্টাও করে যাচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৩

আমার মায়ের হৃদস্পন্দন: একটি বৈজ্ঞানিক অনুসন

আমার মায়ের হৃদস্পন্দন: একটি বৈজ্ঞানিক অনুসন

চিংড়ির ভাইরাস নিয়ে গবেষণা করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও তিন প্রতিষ্ঠানের একদল গবেষকছবি: সংগৃহীত

চিংড়ির ক্ষতিকর হোয়াইট স্পট ভাইরাসের জিন বিন্যাস বা জিনোম সিকোয়েন্স উন্মোচন করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও তিন প্রতিষ্ঠানের একদল গবেষক। সেইসঙ্গে নতুন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত করেছেন এই গবেষক দল।

জিনোম সিকোয়েন্স করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক এস এম রফিকুল ইসলাম, একই বিভাগের অধ্যাপক আদনান মান্নান, ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সের অধ্যাপক এস এম শরিফুজ্জামান ও শাহনেওয়াজ চৌধুরী। সহপ্রধান গবেষক হিসেবে যুক্ত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের আনোয়ার হোসেন, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জুনায়েদ সিদ্দিকী এবং আইসিডিডিআর, বির বিজ্ঞানী এনায়েত হোসেন। গবেষণাগারে পরীক্ষণ এবং তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করেছেন রুবেল আহমেদ, কল্যাণ চাকমা, আশিকুর আলিম আকাশ এবং মোবারক হোসেন পারভেজ।

দেশের রপ্তানি আয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎস চিংড়ি খাত। এই চিংড়ির অন্যতম শত্রু হোয়াইট স্পট সিনড্রোম ভাইরাস। এই ভাইরাস আক্রমণের ৩ থেকে ৭ দিনের মধ্যে চিংড়ি মারা যায়। এর সুনির্দিষ্ট প্রতিষেধক বা টিকা নেই। কারণ এই ভাইরাসের জিনোমের কোনো তথ্য জানা ছিল না দেশের বিজ্ঞানীদের। সম্প্রতি এই ভাইরাসের একটি নতুন ভ্যারিয়েন্ট দেখা গেছে। আর তা হোয়াইট স্পট সিনড্রোম ভাইরাসের জিনোম বিন্যাস উন্মোচনের মাধ্যমে নির্ণয় করেছেন এই গবেষক দল। কক্সবাজার ও সাতক্ষীরা জেলার হোয়াইট স্পট সিনড্রোম ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স করে তাঁরা আবিষ্কার করেছেন, নতুন ভ্যারিয়েন্টটি অন্যান্য দেশের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং এর জিনের গঠন অনেকটা স্বতন্ত্র।




হোয়াইট স্পট সিনড্রোম ভাইরাস মূলত চিংড়ি মাছের সাদা বৃত্তাকার দাগ সৃষ্টির জন্য দায়ী। এটি প্রাণঘাতী ও ছোঁয়াচে ভাইরাস। কোনো পুকুরের একটি চিংড়িকে এই ভাইরাস আক্রমণ করলে এক সপ্তাহের মধ্যে সব চিংড়ি মারা যায়। এই ভাইরাস ক্রাস্টাশিয়ান পর্বের প্রাণী, যেমন চিংড়ি, লবস্টার ও কাঁকড়া জাতীয় প্রাণীকে আক্রমণ করে। তবে ভাইরাসটি অন্য কোনো পর্বের প্রাণীদের আক্রমণ করে না। কারণ ক্রাস্টাশিয়ান পর্বের প্রাণীর কোষে আনুষঙ্গিক প্রোটিন হিসাবে ‘রেব সেভেন’ নামে একধরনের রিসেপ্টর থাকে।ভাইরাসটি এই রিসেপ্টরের সহায়তায় কোষে প্রবেশ করে। কোষে ঢুকেই চিংড়ির গুরুত্বপূর্ণ বিপাক প্রক্রিয়া ব্যবহার করে সংখ্যা বৃদ্ধি করে, দুর্বল করে ফেলে চিংড়িকে। ভাইরাসের প্রতিষেধক বা টিকা তৈরির ক্ষেত্রে ভাইরাসের জিনোমের ধরন এবং চিংড়ি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ। এই গবেষণা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি বাগদা চিংড়ি চাষ হয় কক্সবাজার ও সাতক্ষীরায়। এই দুই জেলায়ই সংক্রমণের হার ছিল সবচেয়ে বেশি। এটি মহামারি আকারেও রূপ নেয়। তাই এ গবেষণার জন্য কক্সবাজার ও সাতক্ষীরা জেলার অন্তর্ভুক্ত সবগুলো উপজেলা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

কক্সবাজার ও সাতক্ষীরা থেকে চিংড়ির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে
কক্সবাজার ও সাতক্ষীরা থেকে চিংড়ির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে
ছবি: সংগৃহীত

১৯৯৪ সালে কক্সবাজারের হ্যাচারিতে এই ভাইরাস প্রথমবার দেখা যায়। ১৯৯৮ সালে খুলনা অঞ্চলের ৯০ ভাগ চিংড়ি হ্যাচারিতে এ ভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া যায়। ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ মাইক্রোবায়োলজি ও মাইকোলজিতে প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, ১৯৯৮ সালে বছরে দেশের ২০ ভাগ চিংড়ি এই ভাইরাসের কারণে মারা যেত। ফলে রপ্তানিকৃত চিংড়ির পরিমাণ ২৬ হাজার টন থেকে নেমে যায় ১৮ হাজার টনে।

এই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল, দেশে বিরাজমান হোয়াইট স্পট সিনড্রোম ভাইরাসের প্রকরণ ও জিনোম সিকোয়েন্স উন্মোচনের মাধ্যমে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও ভিন্নতা শনাক্ত করা। তাহলে বোঝা যাবে, এ ভাইরাসের কোনো বিষাক্ত প্রোটিন বা জিন মাছের সংক্রমণ ও মৃত্যুর ক্ষেত্রে ভুমিকা রাখে কি না। আরও জানা যাবে, এ ভাইরাসের উৎস কী এবং কীভাবে ছড়ায়। এই তথ্যগুলো ভবিষ্যতে প্রতিরোধ ব্যবস্থা পরিকল্পনায় ও প্রতিষেধক তৈরিতে মূল ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন গবেষকরা।


রক্তের রং কি সবুজ বা নীল হতে পারে?

রক্তের রং কি সবুজ বা নীল হতে পারে?


 রক্তের রং কি লাল? নাকি সবুজ বা নীলও হতে পারে? না, এলিয়েনের কথা বলছি না। মানুষের কথাই বলছি। উত্তর ‘হ্যাঁ’ শুনে চমকে যাবেন না। বিরল পরিস্থিতিতে আসলেই এমনটা হতে পারে। এ প্রসঙ্গে আলোচনা করব। তার আগে রক্ত নিয়ে একটু বলি।

প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ রক্তের ব্যাপারে জানতেন। ১৬২৮ সালে ইংরেজ চিকিৎসক উইলিয়াম হার্ভে ব্লাড সার্কুলেশন বা রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া আবিষ্কার করেন। ১৬৬৫ সালে ব্রিটিশ চিকিৎসক রিচার্ড লোয়ার প্রথম ব্লাড ট্রান্সফিউশন বা রক্ত সঞ্চারনের চেষ্টা করেন। রক্ত সঞ্চারন মানে, একটি প্রাণীর দেহ থেকে অন্য প্রাণীতে রক্ত স্থানান্তর। একটা কুকুরকে অন্য একটা কুকুরের দেহ থেকে রক্ত সঞ্চারিত করে তিনি বাঁচিয়েছিলেন বলে জানা যায়।

১৬৬৭ সালে ফ্রান্সের জ্যাঁ-ব্যাপটিস্ট ডেনিস আলাদা আলাদাভাবে ভেড়ার দেহে থেকে ১৫ বছরের একটি বাচ্চা এবং এক গর্ভবতী নারীর দেহে সফলভাবে রক্ত সঞ্চারন করেছিলেন। সে যাত্রায় তাঁরা প্রাণে বেঁচে গেলেও ভয়ঙ্কর অ্যানিমিয়া রোগে আক্রান্ত হন। পরের ১০ বছরে এরকম অনেক রক্ত সঞ্চারনের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে রোগীরা বেঁচে গেলেও ভয়ঙ্কর অ্যানিমিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতেন প্রায় সবাই। তাই আইন করে রক্ত সঞ্চারনের এ পদ্ধতি নিষিদ্ধ করা হয়।

১৭৯৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফিলিপ সিং ফিজিক প্রথম মানুষের রক্ত সঞ্চারন করেন। কিন্তু এ তথ্য তখন প্রকাশ করেননি তিনি। তাই এই তথ্যের সত্যতা নিয়েও আছে মত-দ্বিমত। ১৯০০ সালে প্রথম মানুষের রক্তের গ্রুপকে তিন ভাগে ভাগ করেন অস্ট্রিয়ান চিকিৎসক কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার। গ্রুপগুলো হলো এ, বি ও সি। পরে অবশ্য রক্তের গ্রুপ সি বদলে গিয়ে ‘ও’ হয়েছে। এরপর ১৯০২ সালে ‘এবি’ রক্তের গ্রুপ শনাক্ত করেন ল্যান্ডস্টেইনের দুই সহকর্মী আলফ্রেড ডেকাস্টেলো এবং আদ্রিয়ানো স্টার্লি। ল্যান্ডস্টেইনার ১৯৩০ সালে তাঁর এ আবিষ্কারের জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞান ও শারীরতত্ত্বে নোবেল পুরস্কার পান।

এবারে একটু বিচিত্র একটা প্রশ্ন করি। মানুষের রক্তের গ্রুপ কি পরিবর্তিত হতে পারে? সাধারণত, মানুষের রক্তের গ্রুপ পরিবর্তন হয় না। তবে রক্তের ধরন পরিবর্তিত হতে পারে। এটা খুবই বিরল ঘটনা। রক্তের ধরন পরিবর্তনের বিষয়টিও অন্যান্য পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত। যেমন অস্থি-মজ্জার প্রতিস্থাপন বা নির্দিষ্ট ধরনের লিউকেমিয়া বা সংক্রমণ। তবে রক্তের গ্রুপের এ সব পরিবর্তন কখনো স্থায়ী হয় না।

এবার সেই প্রশ্নটিতে ফেরা যাক। সব মানুষের রক্তের রং-ই কি লাল? নাকি মানুষভেদে সবুজও হতে পারে? হলিউডের চলচ্চিত্রে ‘হাল্ক’ নামে একটি চরিত্রের রক্ত যেমন সবুজ, সেরকম। সত্যি বলতে, মানুষের রক্তের রং লাল ছাড়াও অন্য রঙের হতে পারে। হিমোগ্লোবিনের একটি অণু তার গঠনে পরিবর্তন করে একটি সালফার পরমাণুকে অন্তর্ভুক্ত করলে সালফোহিমোগ্লোবিনে পরিণত হয়। এই বিশেষ পরিস্থিতিতে রক্তের রং বদলে যেতে পারে। হিমোগ্লোবিনে অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করার জন্য লোহার পরমাণু থাকে। সালফোহিমোগ্লোবিনে সালফার পরমাণু লোহাকে অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া হতে বাধা দেয় এবং নিজে অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে। ফলে রক্ত গাঢ় নীল, সবুজ বা কালো দেখায়। এটি এক ধরনের রোগ। তবে সালফোহিমোগ্লোবিনেমিয়ার চিকিৎসা অত্যন্ত সহজ। শুধু অপেক্ষা করলেই হয়। ঠিক হয়ে যায়।

লোহিত রক্তকণিকার জীবনকাল প্রায় ১২০ দিনের। এরপর রক্তকণিকা ভেঙে যায়। উপাদানগুলো তারপর পুনর্গঠিত হয়। তাই চার মাসের ব্যবধানে সালফোহিমোগ্লোবিন ধারণ করা যেকোনো ব্যক্তির লোহিত রক্তকণিকা ঠিক হয়ে যায়। তখন রক্ত আবার লাল দেখায়।

লেখক: শিক্ষার্থী, একাদশ শ্রেণি, সাভার ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা

সূত্র: রেডক্রস ব্লাড ডট ওআরজি, উইকিপিডিয়া ও ডিসকোভারি ডট কম

রবিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৩

 ১০ই ডিসেম্বর "ভোলা মুক্ত দিবস"

১০ই ডিসেম্বর "ভোলা মুক্ত দিবস"


 ১০ই ডিসেম্বর "ভোলা মুক্ত দিবস"

এইচ এম হাছনাইন, ভোলা প্রতিনিধি ১৯৭১ সালের ১০ই ডিসেম্বর তথা আজকের এই দিনে ভোলা পাক হানাদার মুক্ত হয়। ১৬ ডিসেম্বর সারা দেশ স্বাধীন হলেও ভোলা স্বাধীন হয়েছিলো ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল চাপের মুখে পাকবাহিনী কোনঠাসা হয়ে পড়ে। নিজেদের জীবন বাঁচাতে ১০ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনী কার্গো লঞ্চ যোগে ভোলা থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। তাদের চলে যাবার সঙ্গে সঙ্গে মুক্ত হয় ভোলা। পাকবাহিনী পালিয়ে যাওয়ার পর ১০ ডিসেম্বর সকালে বর্তমান ভোলা কালেক্টরেট ভবনের সামনের জেলা হিসাব রক্ষণ অফিসের ছাদে পতাকা উড়িয়ে ভোলাকে হানাদার মুক্ত ঘোষণা করে মুক্তিযোদ্ধারা। পাকবাহিনী চলে যাওয়ার পর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মুক্তিযোদ্ধারা আশপাশ থেকে শহরে প্রবেশ করে। শহরের ওয়াপদা, পাওয়ার হাউজ ও পরবর্তীতে জেলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ক্যাম্প স্থাপন করে এবং শুরু হয় আনন্দ মিছিল। ১৯৭১-এ দেশ রক্ষায় সারাদেশের ন্যায় ভোলাতেও চলে মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি। ভোলা সরকারি স্কুল মাঠ, বাংলা স্কুল, টাউন স্কুল মাঠ ও ভোলা কলেজের মাঠের কিছু অংশে মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ শুরু হয়। পরে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে পাক হানাদার বাহিনীর সম্মুখ যুদ্ধ হয় ভোলার ঘুইংঘারহাট, দৌলতখান, বাংলাবাজার, বোরহানউদ্দিনের দেউলা ও চরফ্যাশন বাজারে। বিপুল সংখ্যক পাক সেনাকে হটিয়ে যুদ্ধে শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা শাহাদাত বরণ করেন। ভোলার খেয়াঘাট এলাকায় মুক্তিযোদ্ধারের ধরে এনে হত্যা করে তেঁতুলিয়া নদীতে ফেলে দেয়া হত। মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের রক্তে রঞ্জিত হয় তেঁতুলিয়ার পানি। বহু নারীকে ক্যাম্পে ধরে এনে রাতভর নির্যাতনের পর সকাল বেলা লাইনে দাঁড় করিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। ওই সময় হানাদার বাহিনী অগণিত মানুষকে হত্যা করে। মুক্তিযোদ্ধাদের দাফন ছাড়াই গণকবর দেওয়া হয়। পাকসেনারা পালিয়ে গেলে ওয়াপদা থেকে ৩০ জন বীরঙ্গনাকে উদ্ধার করা হয়। তাদের চিকিৎসা শেষে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ভোলা শহরের পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস চত্বর দখল করে পাক-হানাদার বাহিনী ক্যাম্প বসায়। সেখান থেকে চালায় নানান পৈচাশিক কর্মকাণ্ড। মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী নিরীহ মানুষদের ধরে এনে হত্যা করা হয়। ওয়াপদা ভবনের পেছনে গণকবর দেয়া হয়। সেটি এখন বধ্যভূমি। এছাড়াও ভোলার বাংলা বাজারে ২৭ অক্টবর পাকহানাদার বাহিনীর সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখ যুদ্ধ হয়। এতে অনেকেই প্রাণ হারায়। এছড়াও গুইংগারহাট, দৌলতখানে গুপ্ত বাজার, বোরহানউদ্দিনের দেউলাতে যুদ্ধ হয়। এসব বদ্ধভূমি ও সম্মূখ মুক্তিযুদ্ধের রনাঙ্গনের স্থান গুলোর মধ্যে শুধু মাত্র ভোলার পাউবোর বদ্ধভূমি ও বাংলা বাজারে মুক্তিযুদ্ধের স্থান সংরক্ষণ করা হয়েছে। এছাড়া ভোলা বাংলা বাজারে মুক্তিযুদ্ধের স্থান সংরক্ষণের কাজ শুরু হলেও অন্যান্য বদ্ধভূমি ও মুক্তিযুদ্ধের স্থানগুলো সংরক্ষণ করা হয়নি। ভোলা মুক্ত দিবস আজ। একাত্তরের ১০ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত হয় ভোলা। শক্রমুক্ত ভোলায় হাজারো মুক্তিকামী মানুষ সেদিন রাস্তায় নেমে আনন্দ উল্লাস করেন। ১৯৭১ সালের এইদিনে সকাল ১০টার দিকে ভোলার লড়াকু সন্তানরা তখনকার ভোলা এসডিও অফিস বর্তমান জেলা হিসাব রক্ষণ অফিসের ছাদে উঠে পাকিস্তানের পতাকা পুড়িয়ে উড়িয়েছিলেন লাল সবুজের স্বাধীন বাংলার জাতীয় পতাকা। মুক্তিযোদ্ধারা ভোলার অধিকাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যখন শহর নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রস্তুতি নেন, সেই সময় ১০ ডিসেম্বর ভোররাতে পাকিস্তানি হানাদাররা চারদিকে গুলি ছুড়তে থাকে। তখন মুক্তিযোদ্ধা কাজী জয়নাল ও ফিরোজের নেতৃত্বে ১৩ জনের একটি বাহিনী তাদের পেছন থেকে ধাওয়া করলে হানাদাররা ভোর ৫টায় ভোলার পুরান লাশ কাটা ঘরের পাশে রাখা একটি কার্গো লঞ্চে চড়ে ভোলা থেকে পালিয়ে যান। ওই সময় তাদের গতিরোধ করার জন্য খালে গাছ ফেলে ব্যারিকেডও দিয়েছিল মুক্তিকামী জনতা। পাক হানাদারদের বহনকারী ওই কার্গো লঞ্চটি মিত্রবাহিনীর বোমা বর্ষণের ফলে চাঁদপুরের মেঘনায় ডুবে ওই হানাদার বাহিনীর অধিকাংশ সদস্যের মৃত্যু ঘটে বলে জানা যায়। প্রত্যক্ষদর্শী সুত্র জানায়, ১৯৭১ সালের ৬ মে বেলা ১২ টায় বরিশাল থেকে লঞ্চযোগে পাকহানাদার বাহিনী ভোলার খেয়াঘাটে এসে নামে। এ সময় তৎকালীন ভোলা পৌরসভার চেয়ারম্যান সহ শহরের একটি গ্রুপ পাক বাহিনীকে স্বাগত জানিয়ে শহরে নিয়ে আসে। খেয়াঘাট থেকে সবাই পায়ে হেঁটে ভোলার যুগিরঘোল ওয়াপদা কলোনীতে গিয়ে পৌঁছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়তে না পড়তে শহরের প্রায় সব বাড়িঘর ফাঁকা হয়ে যায়। এদিকে পাকবাহিনী ট্রাক নিয়ে শহরের রাস্তায় রাস্তায় টহল দিতে থাকে। প্রতি রাতেই স্থানীয় রাজাকারদের সহায়তায় পাকবাহিনী বাড়ি বাড়ি গিয়ে লোকজন ধরে আনত। বিশেষ করে নারী ও যুবকরাই তাদের শিকারে পরিণত হত। এদেরকে নানান অত্যাচার নির্যাতন করে মেরে ওয়াপদার পূর্ব দিকের দেয়ালের বাইরে পুতে ফেলত। সন্ধ্যার পরে ট্রাকে করে লোকজনকে ভোলা খেয়াঘাট নিয়ে গুলি করে নদীতে ফেলে দিত।

শনিবার, ১২ আগস্ট, ২০২৩

বাংলাদেশে কি মাংসখেকো গাছ আছে

বাংলাদেশে কি মাংসখেকো গাছ আছে

 

বাংলাদেশে কি মাংসখেকো গাছ আছে?

পৃথিবীতে একমাত্র গাছপালাই নিজের খাবার নিজেই তৈরি করে। এদের খাবার তৈরির সেই বিশেষ পদ্ধতির নাম সালোকসংশ্লেষণ। তবে কিছু গাছ আছে, যারা আবার এত সব ঝামেলা একেবারেই পছন্দ করে না। তার চেয়ে একটু আমিষ, মানে মাংস খেতেই ভালো লাগে ওদের। এদেরই বলে মাংসখেকো গাছ। এরকম গাছ আছে বাংলাদেশেও...











খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে একমাত্র মানুষই একটু খুঁতখুঁতে। অধিকাংশ খাবার তেল, লবণ, মসলা, পানিসহ হাবিজাবি নানান জিনিস দিয়ে রান্না না করলে খেতেই পারে না! তবে বন্য জীবজন্তুদের অত ঝামেলা নেই। খাবাররূপী জলজ্যান্ত কোনো প্রাণীকে শিকার করে তারপর সেই কাঁচা খাবারই গবাস গবাস করে খাওয়া। ব্যস! কাজ শেষ। তবে অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, মানুষ ছাড়াও গাছপালারাও রান্না করে খাবার খায়। পৃথিবীতে একমাত্র গাছপালাই নিজের খাবার নিজেই তৈরি করে। এদের খাবার তৈরির সেই বিশেষ পদ্ধতির নাম সালোকসংশ্লেষণ। এ পদ্ধতিতে মাটি থেকে পানি, খনিজ, বায়ু থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে গাছ। এ দুইয়ের সঙ্গে নিজের পাতার ক্লোরোফিল মিশিয়ে সূর্যের আলোয় রান্না করে গ্লুকোজ তৈরি করে গাছেরা। এভাবে খাবার তৈরির কারণেi বিশ্বের সব প্রাণী বেঁচে আছে। তাই খাবারের জন্য সব প্রাণীই কোনো না-কোনোভাবে গাছেদের কাছে ঋণী।


তবে কিছু গাছ আছে, যারা আবার এত সব ঝামেলা একেবারেই পছন্দ করে না। তার চেয়ে একটু আমিষ, মানে মাংস খেতেই ভালো লাগে ওদের। এদেরই বলে মাংসখেকো গাছ। হলিউডি চলচ্চিত্রে তোমরা নিশ্চয় মানুষখেকো গাছ দেখেছ। সিনেমার কারণে অনেকের ধারণা, মানুষখেকো গাছ আছে। কিন্তু বাস্তবে এ ধরনের গাছ দেখা না গেলেও পোকামাকড় খেয়ে বেঁচে থাকা কিছু ছোট গাছ খুঁজে পাওয়া গেছে। এরাই মাংসখেকো গাছ (মানুষখেকো নয়!)। এর মধ্যে কলসগাছ, ফ্লাইপেপার ট্র্যাপ, স্ন্যাপ ট্র্যাপ, ব্লাডার ট্র্যাপ, লবস্টার-পট ট্র্যাপ, ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপ উল্লেখযোগ্য। দক্ষিণ আমেরিকায় মাংসখেকো উদ্ভিদ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এ ছাড়া এশিয়ার কিছু দেশেও এর দেখা মেলে। বাংলাদেশে সিলেটের পাহাড়ি এলাকায়ও সূর্যশিশির, ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপ নামের মাংসখেকো গাছ আছে। গবেষণায় দেখা গেছে, সাধারণত যেখানে মাটিতে পুষ্টি উপাদান কম (বিশেষ করে নাইট্রোজেন) এবং মাটি ভেজা, সেখানে মাংসখেকো গাছ বেশি জন্মে। কারণ, মাটি থেকে পুষ্টি না পাওয়ার অভাব এরা পোকামাকড় খেয়ে মেটায়।

এই উদ্ভিদগুলো পোকামাকড়কে ধরার জন্য নানা ধরনের ফাঁদ পাতে। বোকা পোকামাকড়ও সেই ফাঁদে সহজেই ধরা পড়ে। কলস উদ্ভিদের কথাই বলা যাক। এ গাছটি দেখতে অনেকটা কলসের মতো বলেই এর নাম কলস উদ্ভিদ। এই কলসের ওপরের দিকে ফুলের মতো দেখতে লালরঙা। এই অংশে মধুর মতো রস নিংসৃত হয়, যা পোকামাকড়কে আকৃষ্ট করে। মধুলোভী পোকামাকড় এই কলসের ওপর বসে মধু সংগ্রহ করতে গেলেই ঘটে বিপত্তি। কারণ, পিচ্ছিল কলসের ওপর বসার সঙ্গে সঙ্গেই সে পা পিছলে কলসের মধ্যে পড়ে যায়। এরপর কলসের ভেতরের একধরনের রস এসে পোকাটিকে আটকে ফেলে। তারপর কলস উদ্ভিদ আরও কিছু রসের সাহায্যে পোকাটাকে হজম করে ফেলে।







যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ও নর্থ ক্যারোলিনার ভেনাস ফ্লাইট্রাপের পোকা ধরার পদ্ধতি আরও মজার। প্রায় এক ফুট লম্বা ভেনাস ফ্লাইট্রাপের পাতা দেখতে অনেকটা মুখের চোয়ালের মতো। এ পাতা তিন থেকে ছয় ইঞ্চির মতো লম্বা হয় এবং এতে ছোট ছোট অনেকগুলো লোম থাকে। পোকামাকড় কখনো এই পাতার ওপর বসলে তা নিমেষেই বন্ধ হয়ে যায়। কারণ, লজ্জাবতীর লতার মতোই এ পাতাও খুব সংবেদনশীল। তাই পোকামাকড় এদের গায়ে বসলেই আধা সেকেন্ডেরও কম সময়ের মধ্যে সে তার পাতা বন্ধ করে ফেলতে পারে। ঠিক এই সময় আবার পাতার লোমগুলোও পোকাকে বাইরে বের হতে বাধা দেয়। ফলে পাতার মাঝখানে পোকা আটকা পড়ে। এরপর আর কী, পাতা থেকে বিশেষ এক রস বের হয়ে পোকাকে হজম করতে শুরু করে। এভাবে একটা পোকা হজম করতে এদের ১০ দিন সময় লাগে। একটি পোকা হজম শেষ হলে ওই পাতা আবার খুলে যায় নতুন পোকা ধরার আশায়। এভাবে একটি পাতা তিন থেকে চারটি পোকা ধরার পর তার কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়। নতুন পাতা শুরু করে শিকারের কাজ।

কিন্তু এই গাছেরা অন্যদের মতো জল-হাওয়া না খেয়ে পোকামাকড় খায় কেন? প্রথমত বলতে হয়, এদের স্বভাবটাই এ রকম তাই। দ্বিতীয়ত কলসগাছ, ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপসহ অন্যান্য মাংসখেকো গাছদের বাঁচার জন্য প্রচুর নাইট্রোজেন প্রয়োজন। কিন্তু এদের বসবাস সাধারণত জলাভূমিতে। জলাভূমিতে নাইট্রোজেনের পরিমাণ এমনিতেই খুব কম। তাই এ উদ্ভিদকে নাইট্রোজেন জোগাড় করতে হয় পোকামাকড় খেয়ে। কিছু বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস, পরিবর্তিত পরিবেশে টিকে থাকতে গিয়ে বিবর্তনের মাধ্যমে এসব গাছ মাংসভূক হয়েছে। কিন্তু অনেকের এ নিয়ে দ্বিমতও আছে।

সে যাই হোক, অনেকেই হয়তো মাংসভূক এসব গাছের কথা শুনে ভয় পাচ্ছ। কিন্তু এখন তো অনেকেই শখ করে বাড়িতে টবে চাষ করছে মাংসখেকো বা মাংসভূক গাছ। এরা কিন্তু মানুষ খেয়ে ফেলে না! তাই নো টেনশন।